ডেঙ্গু রোগ (জ্বর)

আসসালামু আলাইকুম ,

আশা করছি আপনারা সকলেই ভালো আছেন।ডেঙ্গু এখন আমাদের দেশে একটি বড় আতঙ্কের নাম।বাংলাদেশে এখন অনেক বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জনিত রোগ।সাধারণত এডিস মশার কামড়ের ফলেই ডেঙ্গু জ্বর হয়। বাংলাদেশে এ বছরের ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেশি। গত বছরের তুলনায় এ বছরে অনেক বেশি লোক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে।এডিস মশার কামড়ে সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর হয়ে থাকে। ডেঙ্গুজ্বর হলে প্রথমে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই ঘরেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারেন। ডেঙ্গুজ্বর সাধারণত জুন, জুলাই, আগস্ট, এই তিন মাসে বেশি হয়ে থাকে।তবে এবছর ডেঙ্গুজ্বর অক্টোবর মাস থেকেই দেখা দিচ্ছে। একদিকে শীতের প্রকোপ অন্যদিকে ডেঙ্গুর বিস্তার  বেড়েই চলেছে। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। অবশ্যই কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে যেন মশা বংশবিস্তার না করতে পারে।।এডিস মশা শুধুমাত্র দিনের আলোতেই কামড়ায়।বাংলাদেশের প্রতিবছর অনেক সংখ্যক মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়, কিছু সংখ্যক লোক মারা ও যায়।

আমরা বেশিরভাগ লোকেরাই জানিনা যে, ডেঙ্গু চিকিৎসা সরাসরি কোন ওষুধ নেই ,তাই সহায়ক ব্যবস্থাপনাতে যোগ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ডেঙ্গু হলে রোগীকে বেশি বেশি পানিও ও তরল জাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন ডাক্তাররা।

ডেঙ্গু মশার দেহে সাদা কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে, যে কারণে এটিকে টাইগার মশা বলা হয়।

<

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে যা যা করণীয় -:

১/ বাসা বাড়ির আশেপাশের আঙ্গিনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

২/ ফুলের টব ,বিভিন্ন গাছের গোড়ার অতিরিক্ত পানি পরিষ্কার করতে হবে যেন সেখানে পানি জমে থেকে মশার বংশবৃদ্ধি না হয়।

৩/ সকালে এবং সন্ধ্যায় কীটনাশক জাতীয় স্প্রে করতে হবে অথবা মশা মারার কয়েল এর ব্যবহার করতে হবে।

৪/ ঘুমানোর আগে অবশ্যই কীটনাশক যুক্ত মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে।

তাহলে হয়তো ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে ।

ডেঙ্গু রোগীর লক্ষণ -:

ডেঙ্গু রোগের প্রথম লক্ষণ হলো তীব্র জ্বর, তার সাথে রয়েছে মাথাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা,বমি, শরীরের ক্লান্তির অনুভব সেই সাথে স্বাদ নেই মুখেও,মলমত্রের সাথে রক্ত যেতে পারে। শরীরের শক্তি ধরে রাখতে একমাত্র আস্থা হলো তরল খাবার। এবারে ডেঙ্গুর ধরনের রক্তের প্লাটিনেট হঠাৎ করে কমে যাচ্ছে। ডেঙ্গু জ্বরে তীব্র জ্বর ও সেই সঙ্গে সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হয়।

যেটাকে চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।যদি কারো গায়ে র‍্যাশ ওঠা,তীব্র বমিভাব, মলমূত্রে রক্তের উপস্থিত দেখা দেয় তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

যে সকল এলাকায় ডেঙ্গু সবচেয়ে বেশি হয় -:

গ্রামের দিকের তুলনায় শহরের দিকে ডেঙ্গু বেশি ছড়ায় কারণ শহর এলাকায় ময়লা আবর্জনা বেশি থাকে। শহরের মানুষ তাদের ব্যবহৃত খাবার-দাবারের আবর্জনা রাস্তার পাসশ ফেলে রাখে তা থেকে ডেঙ্গু  মশার জন্ম হয়। তাছাড়াও শহরে নদীগুলোতে মানুষ ময়লা ফেলে তা দূষিত করে ফেলেছে, সেখানে এডিস মশা ডিম পারে এবং তা থেকে বাছা ফুটাই ফলে ডেঙ্গু মশার উপদ্রব বেড়ে যায়।বাংলাদেশের সাধারণত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ডেঙ্গুর আক্রমণ বেশি হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার কারণে এই জায়গায় ময়লা- আবর্জনাও বেশি হয় তাই এডিস মশা সহজে বংশবিস্তার করতে পারে। এভাবেই ডেঙ্গুর প্রকোব বেড়ে যাচ্ছে।

ডেঙ্গু হলে কি খাবেন-:

সারা দিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। মাল্টা,ডাবের পানি,কমলালেবু, পেয়ারা,পেঁপে, আনার ইত্যাদি খেতে পারেন।

গাজর,টমেটো, সশা ইত্যাদি সবজি বেশি করে খেতে পারেন। কারন এতে পানির পরিমান বেশি।

ডেঙ্গু রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা-:

ডেঙ্গু রোগীকে ঘরোয়া চিকিৎসার হিসাবে আপনি শুধুমাত্র প্যারাসিটামল ট্যাবলেটই খাওয়াতে পারেন। তাছাড়া যদি রোগীর তীব্র বমিভাব থাকে সেক্ষেত্রে বমির টেবলেট দিতে পারেন। অন্যথায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অন্য কোন কিছু করা যাবেনা। ডেঙ্গু জ্বর কমাতে কুসুম গরম পানিতে কাপড় বিজয়ে রোগীর শরীর বার বার মুছে দিতে পারেন ।তবে সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ঠান্ডা না লেগে যায়।ডেঙ্গু রোগীকে অবশ্যই তরল জাতীয় পানীয় খাবার খেতে দিতে হবে, সেক্ষেত্রে পানির পরিমাপ দুই থেকে তিন লিটার হতে পারে। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন রোগীর অন্য কোন রোগ আছে কিনা। বাজারে পাওয়া যায় এমন খাবার যেমন- ডাবের পানি, আখের রস,খেজুরের রস ডেঙ্গু রোগীকে খাওয়াতে পারেন।

  • To hire a content writer
  • To hire a WordPress website design
সতর্কতা :ডেঙ্গু রোগীকে অবশ্যই মশারির ভিতরে রাখতে হবে ।কেননা যদি কোন সাধারণ মশা ডেঙ্গু রোগীকে কামড়ায় তারপর যদি সে অন্য কোন পরিবারের সদস্যকে কামড়ায় তাহলে সেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হবে ।

Leave a Comment